সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা: এভাবে আর কত প্রাণ ঝরে যাবে?

  • আপলোড সময় : ২৮-০৯-২০২৫ ০২:০০:৪৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৯-২০২৫ ০২:০০:৪৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা: এভাবে আর কত প্রাণ ঝরে যাবে?
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাগলা বাজারের বাঘেরকোণা এলাকায় মা-মেয়েসহ তিনজনের করুণ মৃত্যু আমাদের আবারও নাড়া দিয়ে গেল। মিনি ট্রাকের বেপরোয়া গতি, অটোরিকশার অসহায়ত্ব আর সড়কে নিরাপত্তাহীনতার এই চিত্র কোনো নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রতিবারের মতোই প্রশ্ন জাগে- এভাবে আর কত প্রাণ ঝরে যাবে, আর কত পরিবার অসহায় হয়ে পড়বে? শুক্রবার সকালের এই দুর্ঘটনায় নিহত হন আঁখি দাস ও তার কিশোরী কন্যা মধুরিমা দাস প্রথমা, সঙ্গে ছিলেন অটোরিকশা চালক সজল গোপ রায়। তারা কেউই এভাবে অকালে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। একটি পরিবারের দুটি প্রজন্ম একসঙ্গে নিভে যাওয়া কেবল একটি দুর্ঘটনা নয় - এটি আমাদের সড়ক ব্যবস্থার ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। সুনামগঞ্জে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অগণিত মানুষ। সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কও অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এসব ঘটনার প্রত্যেকটির পেছনে মূল কারণ একই- বেপরোয়া গতি, সড়ক আইন অমান্য, এবং কার্যকর নজরদারির অভাব। প্রশ্ন হলো- যতবারই দুর্ঘটনা ঘটে, পুলিশ মামলা করে, চালক গ্রেপ্তার হয়; তারপরও কেন মৃত্যুর মিছিল থামছে না? কেন আমাদের সড়কগুলো মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হচ্ছে? সড়ক নিরাপত্তার জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর হতে হবে, পাশাপাশি সড়ক অবকাঠামো সংস্কার জরুরি। অন্যদিকে যাত্রীবাহী ছোট যানবাহন যেমন সিএনজি, যাদের জীবিকা এই গাড়ির ওপর নির্ভরশীল, তারা প্রায়শই বিশাল ট্রাক বা বাসের সঙ্গে একই সড়ক ভাগ করে চলে। কিন্তু তাদের জন্য কোনো আলাদা লেন বা সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিটি যাত্রা তাদের কাছে মৃত্যুঝুঁকি বহন করে। এখন সময় এসেছে সরকারের পাশাপাশি সমাজেরও এই প্রশ্ন করার- এভাবে আর কত? আমরা কি প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন শোক পালন করে আবার আগের মতো চলতে থাকব? নাকি এবার সত্যিই পরিবর্তন চাইব? প্রতিটি প্রাণের মূল্য আছে। আঁখি দাস, মধুরিমা বা সজল গোপকে হারানোর বেদনা শুধু তাদের পরিবারের নয়, আমাদের পুরো সমাজের। তাই এখনই প্রয়োজন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা, নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ এবং বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা। নইলে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে আমাদের মহাসড়কগুলো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স